Sunday, January 5, 2014

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ : হেফাজতের আন্দোলনে আমার সম্পৃক্ততার ব্যাখ্যা


ভারাক্রান্ত মন নিয়েই দিনাতিপাত করছি দেশের অবস্থা, মানুষের দুর্দশা, রাজনৈতিক অস্থিরতা- সব মিলিয়ে চরম অস্বস্তির মধ্যে সময় কাটছে আমি নিজে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অবস্থান করছি অথচ কী করব বুঝে উঠতে পারছি না সামনের সময়গুলো হয়তো আরও ভয়াবহ হবে কতগুলো অহেতুক ইস্যু রাজনৈতিক পরিবেশকে তমসাচ্ছন্ন করে ফেলেছে এসব ইস্যু সৃষ্টির জন্য সরকারকেই দায়ভার গ্রহণ করতে হবে যেমন 'গণজাগরণ মঞ্চ' সৃষ্টি এবং সেই মঞ্চকে কেন্দ্র করে 'হেফাজতে ইসলাম'-এর আবির্ভাব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যে সংঘাতের রাজনীতির উদ্ভব, তা আমার কাছে অহেতুক ইস্যু বলেই মনে হয়েছে এসবের মধ্যে আমার কিছুটা সংশ্লিষ্টতা এসেছে এখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, যেহেতু আমিও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তবে যেটুকু সংশ্লিষ্টতা এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ যতটুকু না ছিল, ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নটাই আমার কাছে অনেক বড় ছিল কারণ আমি পবিত্র ইসলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অবমাননার বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি আর অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের সমর্থন জানানোকে একটি ইমানি দায়িত্ব মনে করেছি আমি রাজনীতিবিদ না হলেও প্রশ্নে ব্যক্তিগতভাবে একই মনোভাব পোষণ করতাম প্রসঙ্গে আমার পক্ষে-বিপক্ষে কিছু অভিমত এসেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আমাকে তির্যক বাক্যে আঘাত করেছেন এসব নিয়ে আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করলে দেশবাসী হয়তো সঠিক বিষয়টি অবগত হতে পারবেন

যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে আমি বা আমার দলের নীতির কথা ব্যক্ত করেছি বিচার কাজের সূচনালগ্নেই আমি বলেছি, যে কোনো অপরাধেরই বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ যা সংঘটিত হয়েছে তার বিচার ৪০ বছর পরে কেন, স্বাধীন দেশের যাত্রালগ্নেই হওয়া উচিত ছিল তবে দেরিতে হলেও সে বিচার যখন শুরু হয়েছে তখন তাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করিনি বলেছি, বিচার যেন সুষ্ঠু এবং আন্তর্জাতিক মানের হয় মূলত যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে আলোচিত দুটি ইস্যুর সৃষ্টি হয়েছে বিচারের প্রথম রায় ঘোষিত হওয়ার পর দেশে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি দ্বিতীয় রায় ঘোষণার পর তরুণ সমাজের ঢাকাকেন্দ্রিক একটি অংশ শাহবাগে একত্রিত হয় তারা প্রতিবাদ জানিয়ে বলল, 'এটা একটা আপসের রায় হয়েছে, রায় আমরা মানি না' সেই তরুণরা স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিল বলে আমিও তাদের অনুভূতিকে স্বাগত জানিয়েছিলাম পরে তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে একটি নতুন আইনও পাস হলো

পর্যন্ত ভালোই ছিল তাদের আন্দোলনে একটা বিজয় এসেছে, এখানেই ক্ষান্ত দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু তা না করে ঘোষণা করা হলো, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে তারা ঘরে ফিরবে না এবং শাহবাগের অবস্থানও ছাড়বে না অবস্থানের নাম দেওয়া হলো 'গণজাগরণ মঞ্চ' গণজাগরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিন স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলো বিশ্বের ইতিহাসে কি এমন কোনো গণজাগরণের নজির পাওয়া যাবে, যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছে?

শাহবাগের দেখাদেখি দেশের প্রায় সব জেলা-উপজেলায়ও ধরনের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেল যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে প্রতীয়মান ছিল যে এটা একটি গণমুখী আন্দোলন এবং স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত ঐক্য, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন সমর্থন পেয়েছে কিন্তু যে সময়ে স্পষ্ট হয়ে গেল এর পেছনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়ে গেছে, তখন সারা দেশের মঞ্চ থেকে তরুণরা সরে যেতে লাগল আর সেই সুযোগে প্রতিপক্ষ একের পর এক মঞ্চ ভেঙে দিতে শুরু করল তখনো যদি মঞ্চ থেমে যায় তাহলেও পানি এতটা ঘোলা হয় না এরই মধ্যে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে ইসলামবিরোধী এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অবমাননাকারী ব্লগারদের দৌরাত্দ্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তার পাশাপাশি সেখানে এক প্যারালাল সরকারব্যবস্থা চালু হয়ে যায় তারা গোটা জাতিকে নির্দেশনা দিতে থাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা আসে সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হলো, এরা ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে অথচ কারও মুখে টুঁশব্দটি পর্যন্ত নেই অবস্থায় আমি আর চুপ করে বসে থাকতে পারলাম না বললাম, ইসলাম অবমাননাকারী এবং প্রিয় নবী (সা.)-কে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টাকারী ব্লগারদের ওই মঞ্চ অবিলম্বে ভেঙে দিন তা না হলে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে ন্যক্কারজনক তৎপরতা কিন্তু জাতি মেনে নেবে না বাস্তবে ঘটেছেও তাই অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা দেশের আলেম সমাজসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ তেতে ওঠে সেই পর্যায়ে আমি আরও বলেছি, তোমরা কি বঙ্গবন্ধু হয়ে গেছ যে জাতিকে নির্দেশনা দিচ্ছ? জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দিষ্ট সময় আছে তা ভঙ্গ করে যে কেউ পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিতে পারে না এটা মেনে নেওয়া জাতীয় চেতনার পরিপন্থী আমি এসবের প্রতিবাদ করেছি এটা যদি কোনো মহল দোষ বলে বিবেচনা করে থাকে তাহলে আমার বলার কিছু নেই

আমি ঘটনার সূচনায় প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছি আর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন হেফাজতে ইসলামের নামে দেশের আলেম-ওলামারা তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ইসলামপ্রিয় মানুষ হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় তারা ক্ষমতা গ্রহণও করতে চায় না তাদের দাবি ছিল যারা পবিত্র ইসলাম মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করেছে তাদের বিচার করা হোক শুরুতে তাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটা ঘোষণা এলেই পরিস্থিতি এতদূর গড়াত না বাহ্যত এখন মনে হতে পারে হেফাজতের আন্দোলন দমন হয়ে গেছে কিন্তু কার্যত কি তাই? আলেম সমাজের মনের আগুন কি নিভে গেছে? যে আঘাত তাদের মনে লেগেছে তা কি সহজে ভুলে যাওয়ার মতো? তা ভোলাতে হলে সরকারকে অবশ্যই আলেম-ওলামাদের পাশে ফিরে আসতে হবে পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চাইতে হবে ক্ষমাপ্রার্থনা অসম্মানের কিছু নয় ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্যে মনের উদারতা নমনীয়তার প্রকাশ ঘটে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট তারাও বহুবার ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও ক্ষমা চেয়ে হারানো ক্ষমতা আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন দেশের মানুষ এখনো পাকিস্তানকে ভালো চোখে দেখে না, কারণ তারা বাংলাদেশে যে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তার জন্য এখনো ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি দেশে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং জামায়াতের ওপর দেশের সিংহভাগ মানুষের যে ক্ষোভ-ঘৃণা রয়েছে তার অবসান ঘটে যেত অনেক আগেই, যদি তারা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে তাদের কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইত তাহলে আজ যে তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং জামায়াতের তরুণ অনুসারীদের যে ভোগান্তি-নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হচ্ছে, এর কোনোটারই মুখোমুখি হতে হতো না তাই সরকারের প্রতি আমার একটা পরামর্শ থাকবে_ যা ঘটেছে তার জন্য দেশের আলেম সমাজের কাছে ক্ষমা চেয়ে সব ভুলে গিয়ে আসুন আমরা সব পক্ষ শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং দেশ জনগণের কল্যাণের পথে ফিরে আসি আলেম-ওলামারা যখন ঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করতে এসেছিলেন তখন মেহমান হিসেবে আমার দলের পক্ষ থেকে তাদের পানি পান করানোর ব্যবস্থা করেছিলাম এটা কি দোষের কিছু করেছিলাম? সরকার যখন তাদের আসা এবং সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে, সেখানে তাদের সেবা দেওয়া কি অপরাধ ছিল?

মে ঢাকায় যা ঘটেছে তা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি এবং এখনো পারছি না হেফাজতের কর্মীরা ঢাকার চারপাশে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন ভালো বলতে পারবেন, ঢাকার বাইরে থেকে যেসব মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক বা আলেম-ওলামা ঢাকায় প্রবেশ করেছেন, তাদের হাতে কি গাছ কাটা করাত-কুঠার জাতীয় কিছু দেখা গেছে? তাদের সঙ্গে এক বোতল পানি আর কিছু চিড়া-মুড়ি ছাড়া কিছু কি ছিল? তারা শাপলা চত্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে বসে ছিলেন ওই সময় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট পশ্চিম পাশে যা ঘটেছে সেখানে কি সত্যই কোনো হেফাজত কর্মী ছিলেন? গ্রাম থেকে যেসব মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষক সেদিন ঢাকা এসেছিলেন, যারা এর আগে কখনো ঢাকা শহর দেখেনওনি, তাদের পক্ষে কি ওই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করা আদৌ সম্ভব ছিল? যাদের ধ্যান-জ্ঞান শুধুই কোরআন-হাদিস, তাদের পক্ষে কি সেই কোরআন-হাদিসে আগুন লাগানোর কথা চিন্তা করাও সম্ভব? অথচ সব দোষ চাপানো হলো হেফাজতের নিরীহ কর্মীদের ওপর কী নির্দয়ভাবে মধ্যরাতে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো ওই রাতে কত আলেম-ওলামার প্রাণসংহার হয়েছে, কতজন শহীদ হয়েছেন, সেই সংখ্যার বিতর্কে আমি যেতে চাই না একজন হলেও তো শহীদ হয়েছেন সেই একজনকে হত্যার দায়ভারও কি কম? প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে তারা কারা? তাদের শনাক্ত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হোক কারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছে তাদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হোক আমি বলেছি, যে কোনো ধর্ম-ধর্মবিশ্বাস-ধর্মগ্রন্থ-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত করা বা অবমাননা করার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা হোক দেশের জাতীয় মসজিদের সামনে কোরআন শরিফে আগুন লাগবে কিংবা কোথাও কোনোভাবে ধরনের ঘটনা ঘটবে, তা কোনো মুসলমান মেনে নিতে পারে না আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম, যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখে শুনেছিলাম যে 'যারা কোরআনে আগুন দিয়েছে তাদের কাউকে ছাড়া হবে না ভিডিও ফুটেজ দেখে একটা একটা করে ধরা হবে' কিন্তু কই? এক মাস গত হয়ে গেল ভিডিও ফুটেজ দেখে তো আজ পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করতে দেখলাম না

কোরআন শরিফ পোড়ানোর এত বড় ঘটনা, যা বিশ্বে আর কখনো কোথাও ঘটেছে বলে মনে হয় না এত কোরআন একসঙ্গে পুড়ল তার ভিডিও ফুটেজ প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েও প্রশ্ন, এতদিনে কেন কাউকে ধরা হলো না?


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বক্তব্য শুনে দারুণভাবে বিস্মিত হতবাক হয়েছি তিনি বলেছেন 'এরশাদ সাহেব তার ক্যাডার বাহিনী দিয়েও কোরআন পুড়িয়েছেন' মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয়ে বলতে চাই, কোরআন পোড়ানোর কথা আমার কানে যাওয়াও পাপ মনে হয় দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে যা বের হয় তা কোনো সাধারণ কথা নয় তা আইনের সমতুল্য সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো বক্তব্য মর্যাদাপূর্ণ হবে সেটাই বাঞ্ছনীয় আমি কখনো কোনো ক্যাডার গড়ার রাজনীতি করি না আমার দলের কর্মীরা রাজপথে পিস্তল-বন্দুক নিয়ে যুদ্ধে নামে না যদি তা কখনো দেখি তাদের জায়গা আমার দলে হবে না মে আমার দলের কর্মীদের ওপর নির্দেশ ছিল নির্দিষ্ট স্থানে হেফাজতের তৃষ্ণার্ত কর্মীদের পানি পান করানোর কিন্তু ওই দিনে কয়েকজন কর্মী একটা মিছিল করেছে, এমন কিছু ছবি পত্রিকায় প্রকাশের পর তাদের শোকজ করেছি ওইদিন পিস্তল নিয়ে গুলি করার ছবিও টিভি চ্যানেলে দেখা গেছে এবং পত্রিকায় হামেশা ধরনের ছবি ছাপা হতে দেখি কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা আমরা জানি না বা দেখি না প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমার ক্যাডাররা নাকি কোরআন পুড়িয়েছে আমার অনুরোধ, তাদের চিহ্নিত করা হোক আমি তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নিয়ে আইনের হাতে সোপর্দ করব ওইদিন যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হোক সেখানে যদি আমার দলের কোনো কর্মী থাকে তাহলে তাকে ধরেও শাস্তি দেওয়া হোক কোরআন পোড়ানোর অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক, আমি জোর গলায় দাবি জানাই 

উপসংহারে বলতে চাই, হেফাজতে ইসলামের কোনো কর্মী জঙ্গি ছিলেন না ইসলাম নবী (সা.)-এর অবমাননায় তারা আহত হয়ে বিচারপ্রার্থনা করেছিলেন মাত্র একটি মহল তাদের সেই অনুভূতিকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল ফলে তারা হয়েছে পরিস্থিতির শিকার মার খেয়েছেন হেফাজত কর্মীরা, রক্তও দিয়েছেন তারা, আবার বদনামও জুটেছে তাদের ভাগ্যে আলেম-ওলামাদের মনে যে আঘাত লেগেছিল তার কোনো উপশম ছাড়াই তাদের আন্দোলন আপাতদৃষ্টে প্রশমিত হয়েছে তবে এটা হয়তো বাহ্যিক মনের দ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটেনি রাসূলপ্রেমে পাগল এই মানুষগুলো ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় যে প্রতিরোধের প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন তার রেশ থেকে যাবে অনন্তকাল ধরে যখনই ইসলাম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদার ওপর আঘাত আসবে তখনই ছাইচাপা আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে

সৈজন্যেঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন১৬ই জুন ২০১৩


Sunday, May 12, 2013

হেফাজতের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বৈত আচরণ : সাভারে উদ্ধারকাজে সহযোদ্ধারা মতিঝিলে গণহত্যার শিকার -এরশাদুল বারী


 সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার তত্পরতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হেফাজত কর্মীরা। রক্তদান, চিকিত্সা সেবা ও হতাহতদের স্বজনদের খাবার সরবরাহেও তত্পর দেখা গেছে হেফাজত কর্মীদের।
 

 ২৪ এপ্রিলের ভবন ধসের ঘটনার মাত্র ১২ দিনের মাথায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই নিরীহ হেফাজত কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়।
 

১২ দিন আগেও হেফাজত কর্মীরা নিজেদের শরীরের তাজা রক্ত দিয়ে, মৃত্যুকূপে জীবন বাজি রেখে দিন-রাত ঘাম ঝরিয়ে মানবতার সেবায় কঠোর পরিশ্রম করেছে। তাদের রক্ত পেয়েই অনেক পোশাক শ্রমিক নিশ্চিত মৃত্যু থেকে ফিরে পেয়েছে নতুন জীবন।
 

 ধ্বংসস্তূপের ভেতরে যখন সরকারের প্রশিক্ষিত সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ না করে ভবনের সামনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থেকেছে। তখন আরও অনেক বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্ধার কর্মীদের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের এসব কর্মীরা জীবনের মায়া ছেড়ে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে প্রবেশ করেছে মৃত্যুকূপে। বের করে এনেছে একের পর এক জীবিত মানুষকে। সরকারের উদ্ধার তত্পরতায় হেফাজত ইসলামের কর্মীদের ভূমিকা তখন মিডিয়ায়ও আলোচিত হয়েছে। কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানে হেফাজত কর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছে দেশের মানুষ।
 

 ঘুমন্ত ও ইবাদতরত নিরীহ মানুষদের বুকে গুলি ছুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের সদস্যরাই।
 

 আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দ্বৈত আচরণ দেখে বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের মনেই প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে, এরা কি মানুষ? এদের কি কোনো বিবেক, দয়ামায়া নেই? শুধু ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশের কারণে এভাবে কি একজন মানুষ আরেকজন নিরীহ মানুষের বুকে গুলি চালাতে পারে? পিচঢালা রাস্তায় পরে থাকা গুলিবিদ্ধ নিথর দেহের ওপর লাটিপেটা ও বুট দিয়ে লাথি মারতে পারে?
 

২৫ এপ্রিল রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের পাশে যেতেই চোখে পড়ে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ প্রশিক্ষিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। রানা প্লাজার পাশের ভবন আরএস টাওয়ারে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, ওই ভবনের নিচতলা দিয়ে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের সুড়ঙ্গ দিয়ে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছেন দাঁড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবি পড়া এক সাধারণ মানুষ। তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানান, তিনি সাভারের একটি জামে মসজিদের ইমাম। ভবন ধসের কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে এসেছেন ঘটনাস্থলে। ২৪ এপ্রিল সারাদিন, পরের রাত এবং ২৫ এপ্রিল দুপুর তখন ১২টা সে পর্যন্ত তিনি একটানা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত মানুষদের উদ্ধারে কাজ করেছেন। পরে জানা গেল তিনি হেফাজতে ইসলামের ওই এলাকার নেতা।
 

 শুধুই ওই ইমামই নয়, একইভাবে অনেক দাঁড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবি পড়া মানুষদের দেখা গেল তারা উদ্ধার অভিযানে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করছেন। জীবন বাজি রেখে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া ওইসব মানুষদের সঙ্গে কথা বলতেই তারা জানান, প্রথমদিন থেকেই ভবনের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ প্রবেশ করছে না। তারা বাইরে থেকে সহযোগিতা করছেন আর সাধারণ মানুষরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে প্রবেশ করে জীবিত মানুষদের বের করে আনছেন এবং ভেতরে আটকা পড়াদের খাদ্য ও পানি সরবরাহ করছেন। এভাবেই রানা প্লাজার ধসের প্রথম দিন থেকে সাধারণ মানুষ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একাকার হয়ে একসঙ্গে কাজ করছেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।
 

মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় আহতদের পাশে রক্ত, নগদ অর্থ, চিকিত্সা সেবা, নিখোঁজ স্বজনদের খাবার সরবরাহ করেও সহায়তা করেছে হেফাজতে ইসলামের আলেম-ওলামারা। বিপদের সময় মানবিক দায়িত্ব হিসেবে আহতদের সুচিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত দিতে সাভারসহ বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টারের রক্তদান কেন্দ্রে দ্রুত ছুটে যান বিভিন্ন মাদরাসার হাজার হাজার ছাত্র। দুর্ঘটনাস্থল ও বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা। প্রয়োজনে লাখো ব্যাগ রক্ত দিতে তাদের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেন তারা। নিহতদের মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন স্থানে দোয়া অনুষ্ঠান করে সংগঠনটি।

 

 ভবন ধসের খবর শোনার পরপরই বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে পদক্ষেপ নেন হেফাজতে ইসলাম নেতারা। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা বিপদে পড়ায় সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিয়ে রাজধানীর সব মাদরাসা ছাত্রদের রক্ত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাভার, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন। সাভার এনাম মেডিকেলে হাফেজ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সহস্রাধিক নেতাকর্মী সারিবদ্ধভাবে রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাছাড়া মাওলানা মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেলে, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর নেতৃত্বে পঙ্গু হাসপাতালে, মাওলানা যোবায়ের আহমদের নেতৃত্বে আগারগাঁও সন্ধানী হাসপাতালে শত শত নেতাকর্মী আহতদের চিকিত্সার জন্য রক্তদান করেন। সেইসঙ্গে তাত্ক্ষণিকভাবে আয়োজিত বিভিন্ন রক্ত সংগ্রহ ক্যাম্পে গিয়েও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী এবং রাজধানীর অন্তত ৩০টি মাদরাসার ছাত্ররা এই মহান কাজে অংশগ্রহণ করেন।

 

 হেফাজতে ইসলামের সাভার শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মুফতি আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ও হেফাজতের প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক নেতাকর্মী সাভারের ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের উদ্ধার অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অংশ নেয়। সাভারের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

 

 এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত কামনা ও আহত ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, মক্তবে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে। পরে রানা প্লাজায় মর্মান্তিক ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মহানগর সদস্য সচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল।

 

 ২৫ এপ্রিল বেলা ১২টায় হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর পক্ষ থেকে সাভার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও মারাত্মক আহতদের সুচিকিত্সা নিশ্চিত করার জন্য মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা মাহফুজুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নগদ আর্থিক অনুদান নিয়ে সাভার যায়। সেখানে তারা এনাম মেডিকেলে চিকিত্সাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন ও সরাসরি তাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এ সময় শত শত হেফাজত কর্মী স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য এনাম মেডিকেলে সারিবদ্ধভাবে হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।

 

 পরে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, সাভারের ভবন ধসের ঘটনায় আহতদের সেবায় হেফাজত কর্মীদের স্বেচ্ছায় দেয়া এক হাজার ব্যাগ রক্ত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দেয়া হয়েছে। এছাড়া চিকিত্সার জন্য নগদ টাকা এবং হেফাজতের প্রায় তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মীর হিসেবে ঘটনাস্থলে দিনরাত কাজ করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ২৪ এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ধার অভিযান শুরুর আগ পর্যন্ত প্রতিদিনই হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে কাজ করেছেন। সাভারে রাস্তার দুপাশে মহাসড়কে গাড়ি চলাচলে সহায়তা ও রাস্তার পাশে মঞ্চ করে ওষুধ, ঠাণ্ডা পানি ও শরবত বিতরণ করতে দেখা গেছে হেফাজত কর্মীদের।
 

 ঢাকা থেকে সাভার যেতে সাভার বাসস্ট্যান্ডের আগের স্ট্যান্ডের নাম থানা রোড। সেখানে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তার আগের স্ট্যান্ড হলো গেন্ডা।
 
২৫ এপ্রিল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, গার্মেন্ট কর্মীদের বাঁচাতে এবং তাদের রক্ত ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে ক্যাম্প স্থাপন করেছে হেফাজতে ইসলাম। বিভিন্ন মাদরাসা থেকে কয়েক হাজার ছাত্র সেখানে স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে উপস্থিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও সেখানে উপস্থিতি ছিলেন। এছাড়া ঘটনাস্থলের কাছেই অবস্থিত সাভার ব্যাংক কলোনি মাদরাসা। উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই সেখানকার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল্লার উদ্যোগে তার মাদরাসার অসংখ্য ছাত্র রক্ত দিচ্ছে।
 

 এভাবেই সাভারে সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন হেফাজতের কর্মীরা।
 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হেফাজত কর্মীদের সহায়তার হাতকে আরও প্রসারিত করেছে।
 
কিন্তু তার ঠিক ১০ দিন পর ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি শেষে রাজধানীর মতিঝিলে সমাবেশ ও রাতের অবস্থান কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সেদিন প্রায় অর্ধকোটি মানুষের সমাবেশ ঘটে রাজধানীতে।
 
বিকালে সমাবেশ শেষে হেফাজত কর্মীরা রাতে মতিঝিলে অবস্থান নিলে সরকারের নির্দেশে সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি অংশের সদস্যরা গভীর রাতে মতিঝিলে অবস্থান নেয়া ঘুমন্ত ও ইবাদতরত হেফাজত কর্মীদের ওপর শুরু করে স্মরণকালের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় দশ সহস্রাধিক সদস্য মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ, রাবার বুলেট, গ্যাস গ্রেনেড বিস্ফোরণ, বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রসহ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে হামলা চালায় হেফাজত কর্মীদের ওপর।
 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বুলেটের আঘাতে শত শত হেফাজত কর্মীর বুক ঝাঁঝরা হয়ে যায়। বুক, মাথা ও হাত-পাসহ শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন তারা।
 
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিলেমিশে সাভারের মানবতার সেবায় অংশ নেয়া এসব হেফাজত কর্মীর বুকে গুলি ছুড়ে গণহত্যা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, যে গণহত্যা হার মানায় ২৫ মার্চের কালো রাতকেও। আবারও নিরীহ হেফাজত কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ওঠে পিচঢালা রাজপথ।